মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর জীবদ্দশায় যে পরাশক্তির সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ছিল ইরান। Mijanur Mijanur Rahman প্রকাশিত: ৩:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৫ সম্পাদকীয় ঃবর্তমান ইরানের প্রাচীন নাম পারস্য। ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ও বহির্বিশ্বে ইরান পারস্য নামে পরিচিত ছিল। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্য আধুনিক পারস্য বা বর্তমানের ইরানের থেকেও অনেক বিস্তৃত ছিল। এক সময় পারসিকরা মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত, খ্রিস্টপূর্ব কয়েক শতাব্দি ধরে প্রাচীন গ্রিসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল পরে রোমান সাম্রাজ্যেরও প্রতিপক্ষ ছিল। পারসিকরা মিশর শাসন করেছে একসময় ককেসাস এবং মধ্য এশিয়ার বড় অংশ এবং পাকিস্তান এবং ভারতের অংশও শাসন করেছিল। তাদের সাম্রাজ্যের শীর্ষ সময়ে বিশ্বের ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ পারসিক শাসনের অধীনে ছিল, যা অন্য যেকোনো সাম্রাজ্যের চেয়ে বেশি। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তৎকালীন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি ছিল (বর্তমানে ইরান) ও রোম। উভয় পক্ষই ছিল কাফের। পারসিকরা শীরক ও প্রতিমা পূজা করত। রোমরা ছিল খ্রিস্টান আহলে কিতাব। এরা ছিল মুসলমানদের অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী। কারণ ধর্মের অনেক মূলনীতি যথা পরকালে বিশ্বাস ওহিতে বিশ্বাস ইত্যাদিতে তারা মুসলমানদের সাথে অভিন্নমত পোষণ করতো। মহানবী সাঃ এর জীবদ্দশায় ইসলাম আত্মপ্রকাশের প্রাথমিক দিকে রোম ও পারস্যের মধ্যে একটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। শাম দেশের আফরুয়াত ও বুশরার মধ্যস্থলে যুদ্ধটি হয়েছিল এই যুদ্ধের সময় মক্কার মুশরিকরা পারশিকদের বিজয় কামনা করেছিল কারণ তাদের মত পারসিকরাও পূজা করত। অপরপক্ষে মুসলমানদের আন্তরিক বাসনা ছিল রুমকরা বিজয়ী হোক। কারণ তারা ধর্ম ও মাযহাবের দিক দিয়ে ইসলামের নিকটবর্তী ছিল। মুসলমানরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত তারাও আল্লাহকে বিশ্বাস করত।কিন্তু সেই যুদ্ধে পারসিকরা জয় লাভ করে । এমনকি তারা কনস্টান্টিনোপলো অধিকার করে নেয়এবং সেখানে পূজা করার জন্য একটি অগ্নিকুণ্ড নির্মাণ করে। এটা ছিল পারস্য সম্রাট পারভেজের সর্বশেষ বিজয়। এরপর তার পতন শুরু হয় এবং অবশেষে মুসলমানদের হাতে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় মক্কার মুশরিকরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল এবং মুসলমানদেরকে লজ্জা দিতে লাগলো যে তোমরা যাদের সমর্থন করতে তারা হেরে গেছে। বলে বেড়াতে লাগল যে আহলে কিতাব যেমন পারসিকদের মোকাবেলায় পরাজয় বরণ করেছে তেমনি আমাদের মোকাবেলায় তোমরাও একদিন পরাজিত হবে। এতে মুসলমানরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত হয়। আল্লাহ তাআলা সুরা রুমের প্রাথমিক আয়াতগুলোতে ভবিষ্যৎবাণী করে বলেন যে কয়েক বছর পরে রুমকরা পারসিকদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবে।হযরত আবু বক্কর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এই আয়াত শোনার পর কার চতুর্পাশে এবং মুর্শিদদের সমাবেশ ও বাজারে উপস্থিত হয়ে তোমাদের এত আনন্দিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কয়েক বছরের মধ্যে রোমকরা পারসিকদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে। আল্লাহু তায়ালা পবিত্র কোরআনের এরশাদ করেন আলিফ লাম মিম রোমকরা পরাজিত হয়েছে এলাকায় এবং তাদের পরাজয়ের পর অতি সত্তর বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। অগ্র পশ্চাতের কাজ আল্লাহর হাতেই।সেদিন আনন্দিত হবে আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী পরম দয়ালু । SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: