কক্সবাজারে হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণে সরকারি বাধা: উদ্যোক্তারা বিপাকে

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৫

ক্রাইম পেট্রোল নিউজ ডেস্ক: ৭ জুলাই, ২০২৫ইং,  ২০:৪৫

এম এফ ইসলাম মিলন, নির্বাহী সম্পাদক।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণে উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সরকারি বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে চরম হতাশায় ভুগছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, জমির শ্রেণিগত জটিলতা, বহুসংখ্যক সংস্থার অনুমোদন, নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন এবং ইউটিলিটি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা—সব মিলিয়ে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীরা বাধার মুখে পড়ছেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বড় বাধা:
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকা সরকারিভাবে “Ecologically Critical Area (ECA)” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সৈকতের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ বা সীমিত। হোটেল বা রিসোর্ট নির্মাণের পূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে Environmental Clearance Certificate (ECC) সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। অনেক উদ্যোক্তাই এই প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর আটকে থাকেন।

জমি অনুমোদন ও পরিকল্পনা জটিলতা:
উপজেলা ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (CDA), পরিবেশ অধিদপ্তরসহ একাধিক দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়। অনেক এলাকায় জমির রেকর্ড, শ্রেণি বা খতিয়ান ঠিক না থাকায় অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে।

স্থানীয় এক বিনিয়োগকারী জানান, “জমি কিনে ২ বছর পার করে ফেলেছি, কিন্তু এখনো বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পায়নি। প্রতিটি দপ্তরে ঘুরছি, কিন্তু সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকায় বিপাকে পড়েছি।”

বহু লাইসেন্সের ঝামেলা:
হোটেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় একাধিক লাইসেন্স ও ছাড়পত্র—যেমন ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, ফায়ার সার্ভিস ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং ট্যুরিজম বোর্ড নিবন্ধন। প্রতিটি অনুমোদন পেতে পৃথকভাবে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয় উদ্যোক্তাদের। একাধিক দপ্তরে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।

নীতিমালার অস্থিরতা ও সমন্বয়হীনতা:
পর্যটন, পরিবেশ এবং উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট নীতিমালাগুলো বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। তদুপরি, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সমাধানে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ দাবি:
পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্যোক্তারা কক্সবাজারে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর দাবি জানিয়েছেন। এতে সব ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদন এক জায়গা থেকে পাওয়া যাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, “পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সরকারকে নীতিমালার স্বচ্ছতা ও সেবা সহজীকরণে নজর দিতে হবে, নইলে কক্সবাজারের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না।”

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি কক্সবাজারে হোটেল ও রিসোর্ট শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে শুধু উদ্যোক্তারাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের পর্যটন অর্থনীতি। সময়োপযোগী পদক্ষেপ, দুর্নীতিমুক্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নীতিগত স্বচ্ছতাই পারে কক্সবাজারকে সত্যিকার অর্থে “আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম হাব” হিসেবে গড়ে তুলতে।