ফেনীর পরশুরামে পৌর ভূমি অফিসের সহায়কের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও গড়মিল সনদে চাকরি করার অভিযোগ

Mijanur Mijanur

Rahman

প্রকাশিত: ১:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২৫

 

**************************

শিবব্রত(বিশেষ প্রতিনিধি)

****************************

পরশুরাম পৌর ভুমি অফিসের অফিস সহায়ক ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার গড়মিল সনদ দিয়ে ১৫ বছর ধরে চাকরি করছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি ওই পৌর ভুমি অফিসের অফিস সহায়ক ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কয়েক জন কর্মচারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার পরশুরাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৭-৩-২০১১ সালে ইস্যু কৃত এবং তৎকালীন প্রধান শিক্ষক দীপ্তি লাল চৌধুরী স্বাক্ষরিত অষ্টম শ্রেনী পাসের যে সনদটি সংশ্লিষ্ট চাকুরীর বালামে জমা দিয়েছেন সেটি তার প্রকৃত পরিচয় নয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্কুলের রেজিস্ট্রার বইয়ের বরাতে জানা যায় ওই রেজিস্ট্রার বই এ একজনের নাম পাওয়া যায় ফয়েজ উল্লাহ পিতা- আব্দুল হক। তিনি ১৯৯৯ সালে এই স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ২০০০ সালে অষ্টম শ্রেণী পাস করেন।

কিন্তু ফয়েজ উল্লাহ’র যে শিক্ষাগত সনদটি অফিসের বালামে জমা আছে সেটিতে উল্লেখ আছে ফয়েজ উল্লাহ ওরফে আনোয়ার পিতা: মৃত আব্দুল হক এবং বয়সের অংকে ও মিল নেই। এই সনদটি প্রকৃত পক্ষে বর্তমানে পরশুরাম পৌর ভুমি অফিসে কর্মরত অফিস সহায়ক ফয়েজ উল্লাহ’র কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্ত ক্রমে আইন গত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওই অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এবিষয়ে পরশুরাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান,স্কুলের রেজিস্ট্রার বইয়ের বর্ননা অনুযায়ী সনদ ইস্যু করতে হয়। রেজিস্ট্রারের বর্ননার বাইরে সনদ ইস্যু করার নিয়ম নেই। ফয়েজ উল্লাহর এই গড়মিল সনদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হবে বলে জানান

পরশুরাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়া ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার ষষ্ট শ্রেনী কোন স্কুল থেকে পাশ করেছেন এব্যাপারে ও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

এই ব্যাপারে পরশুরাম পৌর ভুমি অফিস সুত্র জানায় ,এই বিষয়ে পরশুরাম পৌর ভুমি অফিস ওয়াকিবহাল নয়।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ওই সুত্র জানায়, অনেক আগে থেকেই ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার ভুমি অফিসে চাকরি করে আসছেন। আর এটার ব্যবস্থা নেয়া উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের বিষয়।

এই বিষয়ে ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ারের সাথে কথা বললে তিনি জানান ,এটা কোন বিশেষ বিষয় নয় । এব্যাপারে তিনি (ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার) ফেনী জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছেন বলে ও জানান। এক প্রশ্নের জবাবে ,ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার বলেন , জেলা প্রশাসক থেকে সকল উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা তার কথার বাইরে যান না। এই প্রেক্ষিতে গত ৩১-১০ -২০২৫ ইং তারিখে রাত সোয়া বারো টায় আনোয়ারের পক্ষ হয়ে সুব্রত সরকার নামীয় একজন সাভার ক্যান্টনমেন্টে ল্যান্স কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত পরিচয় দিয়ে এই প্রতিবেদককে ফোনে বলেন”ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার খুব ভালো লোক ।তার বিরুদ্ধে যেন আর নিউজ করা না হয়। ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ারের শিকড় অনেক গভীরে।”

অন্য একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানায়,ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার দীর্ঘ দিন ধরে ভুমি অফিসে তার প্রভাব খাটিয়ে জমা খারিজ,খাজনা সহ বিভিন্ন বিষয়ে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করে আসছে।

ভুক্তভোগী অনন্তপুর গ্রামের মনা মিঞা বলেন, “তিনি জমির একটা রেকর্ড সম্পর্কীয় বিষয় দেখতে গেলে ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার তার কাছে প্রকাশ্যে টাকা দাবী করেন । এই মনা মিঞার মতো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী দের অভিযোগ, পরশুরাম পৌর ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নয় সরাসরি টাকা দাবী করেন ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার।

বাউরখুমা গ্রামের বাসিন্দা পলাশ বলেন, ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার মানুষ জমির খারিজ করার জন্য গেলে সে কৌশল প্রয়োগ করে ওই লোককে তার কাছে বাগিয়ে নিয়ে খারিজ করে দিবে বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তার পক্ষে কাজ করার জন্য একটি দালাল চক্র ও আছে বলে জানান পলাশ।এভাবে অনেক লোক আছেন ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ারের খপ্পরে পড়ে হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। বিলোনিয়া অঞ্চলের সিরাজ বলেন, আনোয়ার ফুলগাজীতে একটি কম্পিউটার দোকানে বসে জমি বিষয়ক অপকর্ম গুলো করে থাকেন। কোলাপাড়া গ্রামের নিয়াজ, কবিরুল ও আসমা বলেন,ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার সব সময় নিজেকে অসুস্থ ,পেটে তার অপারেশন হয়েছে বলে জামা উল্টিয়ে পেটে কাটা একটা চিহ্ন ও কিছু পুরোনো প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে ব্লাকমেইল করে আসছেন। নাম প্রকাশ না করার দৃঢ়শর্তে পরশুরাম ভুমি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, আনোয়ার গত ১৫বছরে কয়েক বার দেশের বাইরে গেছেন কিন্তু সে কতৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটির বিষয়ে অফিসিয়াল কোন নিয়ম পালন না করেই সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে গেছেন। এছাড়া ২০২১ সালে ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ারের বিরুদ্ধে সাতকুচিয়া গ্রামের বাসিন্দা তারেক রহমান কতৃক ফেনী কোর্টে করা দশ লক্ষ টাকার চেকের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ।পরে আদালতের বিচারে তাকে ১বছরের কারাদণ্ড দিয়ে দশলক্ষ টাকা জরিমানা করেছিলেন। কিন্তু সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী সাসপেন্ড হওয়ার নিয়ম থাকলেও ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার তার ব্যতিক্রম ছিলেন। এছাড়া ফয়েজ উল্লাহ আনোয়ার অফিসে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী কে পাত্তা না দিয়ে সে তার খেয়াল খুশি মতো সব কাজ করে থাকেন। এব্যাপারে পরশুরাম সহকারী কমিশনার (ভুমি) শাফায়েত আক্তার নুর বলেন খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।