রেলপথ এখন মাদকের ‘নিরাপদ করিডর’—চট্টগ্রাম রুটে সক্রিয় শক্তিশালী চক্রের অভিযোগ Mijanur Mijanur Rahman প্রকাশিত: ১১:২২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২৫ বিশেষ প্রতিনিধি দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন রেলপথকে ঘিরে মাদক পাচারের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয়—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন অনুসন্ধানী সূত্রে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটকে ইয়াবা ও ভয়ংকর মাদক ‘ক্রিস্টাল মেথ’ বা আইস পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সূত্রদের মতে, কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত অঞ্চল থেকে আসা মাদকের বড় চালান চট্টগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন গোপন আস্তানায় মজুত করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সহায়তায় এসব চালান ট্রেনের বগি, পার্সেল বা পণ্যবাহী ওয়াগনে তুলে ঢাকার দিকে পাঠানো হয়। তাদের অভিযোগ—স্টেশনে পরিচালিত তল্লাশি অনেক সময়ই কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা মাত্র; মূল চালানগুলো বিশেষ ‘ম্যানেজমেন্ট’-এর আওতায় নির্বিঘ্নে পার হয়ে যায়। স্টেশনের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “তল্লাশির নামে যা হয়, তা অনেকটাই নিয়ম পালন। বড় চালানগুলো আগেই সুরক্ষিত চ্যানেলে ট্রেনে ওঠে যায়।” আগের দায়িত্বেও ছিল বিতর্ক—দাবি সূত্রের রেলওয়ে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলেও দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের একটি অংশ। যদিও এসব অভিযোগের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। আইস সন্ত্রাসে নতুন আতঙ্ক ইয়াবার পাশাপাশি ‘ক্রিস্টাল মেথ’ বা আইস এখন দ্রুত ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই মাদক স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে এবং তরুণ সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করে। এক বিশেষজ্ঞ বলেন, “রেলপথ যদি অবাধ চোরাচালানের রুটে পরিণত হয়, তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।” মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেলওয়ে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) তেমন দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযানের গতি মন্থর হওয়ার বিষয়টিকে অনেকে ‘মাশোহারাভিত্তিক নীরবতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে ডিএনসি সূত্র বলছে—তারা রেলওয়ে এলাকায় নিয়মিত নজরদারি রাখছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে অভিযান পরিচালনা করছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বহুবার সতর্কবার্তা রেলপথে মাদক পরিবহন নিয়ে একাধিকবার গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন জমা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্টেশনের অভ্যন্তরে প্রভাবশালী কিছু মহলের কারণে অনেক নির্দেশনা থেমে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ আইন–শৃঙ্খলা ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে— প্রতিটি ট্রেনে পার্সেল ও লাগেজ স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক করা, রেলওয়ে পুলিশের সদস্যদের নিয়মিত রোটেশন, স্টেশনে পৃথক গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ সেল, রেলওয়ে ও ডিএনসি’র যৌথ টাস্কফোর্স গঠন মাদক সিন্ডিকেট দমনে জরুরি পদক্ষেপ। রেলপথের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থাকে ঘিরে যদি মাদক চক্রের অদৃশ্য প্রভাব কার্যকর থাকে—তা দেশের আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার একমাত্র উপায়। SHARES অপরাধ/দূর্নীতি বিষয়: