ফেনীর পরশুরাম ভুমি অফিসে লাগাম টানা যাচ্ছেনা দালালের Mijanur Mijanur Rahman প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ শিব ব্রত চক্রবর্ত্তী(বিশেষ প্রতিনিধি) ************************ পরশুরাম উপজেলার উপজেলা ভুমি অফিস ও পৌরভূমি অফিসসহ একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন ঘুষ, দুর্নীতি আর দালালের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব অফিসে দালালদের সহায়তা ছাড়া একটি ফাইল নড়া তো দূরের কথা, কোনো কাজই হয় না। প্রতিটি অফিসেই ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের মূল্য তালিকা সংবলিত সিটিজেন চার্টার ও কাগজ সরবরাহের নির্ধারিত সময়ের উল্লেখ থাকলেও সেটা ওই সিটিজেন চার্টারেই সীমাবদ্ধ।দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে এখানে প্রতিটি কাজ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের । আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতগুণ বেশি টাকা দিয়েও কেউ কেউ হয়রানির শিকার হচ্ছেন দালালদের দ্বারা। অনুসন্ধানে জানা যায় উপজেলার পৌর ভুমি অফিসে অফিসের কর্মচারী না হয়েও এক থেকে দুইজন দিব্যি কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের কেউ অফিসের নথি সাজিয়ে রাখছেন অথবা নথি ঘেঁটে কোন দাগ নাম্বার বা প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে দিচ্ছেন কিন্তু এটা করার নিয়ম শুধু ওই অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। এতে অফিসের গোপন তথ্য পাচার বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সেবা গ্রহীতারা। সেবা গ্রহীতারা বলেন ,তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তারা এসব অফিসের নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী নয়। জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা মূলত দালালি করেন। দালালির দ্বারাই তাদের আয়-রোজগার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূমি কর্মকর্তা বলেন, অফিসের জনবল কম থাকায় বাইরের দু-একজন বিশ্বস্ত লোক রাখা হয়। এ নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহক খুশি হয়ে যে অর্থ দেয়, সেটা তারা গ্রহণ করে। এদিকে স্থানীয় ভূমি মালিকরা জানান, জমির বৈধ মালিক যেই হোক, দালালদের চাহিদা মতো টাকা এবং দাগ খতিয়ান নম্বর দিলেই ভুমি সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আবার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দালাল ছাড়া অথবা দালালদের ঘুষে হেরফের হলে প্রকৃত জমির মালিকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব দালাল সরকারি কর্মচারীর মতো বিভিন্ন রেকর্ডপত্র নাড়াচাড়া করে। দালালরা ভুল ও মিথ্যা তথ্য সংযোজন করে ফের তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য সংশিষ্ট ভূমি মালিকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার টাকা। এদের বিরুদ্ধে কথা বললে জমি নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পরশুরাম উপজেলায় উপজেলা ভুমি অফিস সহ ইউনিয়ন ভূমি অফিস মিলে বর্তমানে অন্তত ১৫ জন দালাল সক্রিয় রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার দৃঢ় শর্তে নামের আদ্যাক্ষর “স” নামের এক দালাল বলেন, “আমার মতো অনেকেই সব ভূমি অফিসেই কাজ করছে। তবে আমরা সেবা গ্রহীতাদের ভুমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিই। সেবা গ্রহণকারীরা খুশি হয়ে যে অর্থ দেয়, তা আমরা গ্রহণ করি। জোর করে কারও কাছ থেকে টাকা নিই না। এক প্রশ্নের জবাবে ওই দালাল বলেন সেবা গ্রহীতা সরাসরি যদি অফিসে গিয়ে কাজ করতে চায় সেটাতে কিছু টা দেরী হয় আর আমাদের মাধ্যমে গেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ হয়ে যায়।” সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয় সেটাকা থেকে একটা অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী রা পেয়ে থাকেন যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেবগ্রহীতারা সেবা পেয়ে থাকে বলে ও জানান ওই দালাল। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে জানান সেবা গ্রহীতারা বেশিরভাগ বিকাশের মাধ্যমেই লেনদেন করে থাকেন। সরাসরি কেউ টাকা লেনদেন করেননা। এই বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাফায়েত আকতার নুর বলেন, কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্হানীয় সেবা গ্রহীতা খায়রুল বলেন, আমার একটা জমির সমস্যা নিয়ে এসেছি । সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পর ও তা হচ্ছে না। কিন্তু কেন হচ্ছে না তিনি তা জানেন না। মির্জানগরের মোঃ নবী বলেন,ভুমি অফিস নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেবা গ্রহীতারা ভুমি অফিসে এসে কি চরম হয়রানি শিকার হয় একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানে। জমির নামজারি করতে হলে দালালের কোন বিকল্প নেই। বক্স মাহমুদের বাসিন্দা মিজানুর বলেন, সরকার বা ভুমি অফিসের লোক যতই সেবার কথা বলুক টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলেনা ভুমি অফিসে। তাদের মনোনীত লোকের মাধ্যমে চাহিদাকৃত টাকা দিলেই শুধু সেবা মিলবে বলে জানান মিজানুর। পরশুরাম উপজেলার উপজেলা ভূমি অফিসসহ ইউনিয়ন ভুমি অফিস গুলো যেন সেবা নয়, দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। এখানে সেবা নিতে আসা মানুষজনকে দালালের দ্বারস্থ না হলে কোনো কাজই এগোয় না। ভুমি অফিস গুলো ভুমি সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহীতাদের জন্য এক অভিশাপে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উদ্যোগে ডিজিটাল ভূমি সেবা চালু হলেও এই অফিসে তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। পরশুরাম উপজেলা ভুমি অফিসের পাশেই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির অফিসে দালালরা তৈরি করেছে বিকল্প “ভূমি অফিস”, যেখানে প্রকাশ্যে চলছে ভুমি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখা , দরকষাকষিসহ বিকাশ-নগদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন। সরকারি অফিস থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। SHARES অপরাধ/দূর্নীতি বিষয়: