ওমানে বাংলাদেশিদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ

Mijanur Mijanur

Rahman

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

ওমানে বাংলাদেশিদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি (আন্তর্জাতিক) | মাস্কাট

সুদূর ওমানে গিয়ে এক বাংলাদেশি ব্যক্তি ধারাবাহিক প্রতারণার মাধ্যমে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে তুলেছেন—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রাসেল, যিনি বাংলাদেশ থেকে ওমানে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
ওমান প্রবাসীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত রাসেলের কারণে বহু বাংলাদেশি আজ মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ হারিয়েছেন ব্যবসার পুঁজি, কেউ আবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন জীবিকার সন্ধানে।

বাকিতে মাল নিয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাসেল ওমানে অবস্থান করে বাংলাদেশি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সাইদ–এর কাছ থেকে দফায় দফায় রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য বাকিতে গ্রহণ করলেও নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা পরিশোধ করেননি। উল্টো নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে—রাসেল আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির কাছ থেকে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ করে লাপাত্তা হয়েছেন।

ফরিদপুরের বাসিন্দা বলে দাবি

ওমানে বসবাসরত একাধিক প্রবাসী নিশ্চিত করেছেন, অভিযুক্ত রাসেলের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে শুধু ব্যক্তি নয়, ওমানে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা।

পরিবারের সদস্যদেরও প্রতারণা?

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা রাসেলের স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারীদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা

ভুক্তভোগী বাংলাদেশিরা ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও বহু প্রবাসী সর্বস্বান্ত হবেন।

সচেতন মহলের জোরালো দাবি

সচেতন মহল মনে করছেন, প্রবাসে এ ধরনের প্রতারক চক্র দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা অবিলম্বে তদন্ত, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ উদ্ধার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।