জাপানে শিশুদের চেয়ে বয়স্কদের ডায়াপার বিক্রি বাড়ছে

প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশে শিশুদের জন্য ডায়াপার উৎপাদন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে জাপানি ডায়াপার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ওজি হোল্ডিংস। এর পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্কদের বাজারে মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে শিশুদের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ন্যাপি বা ডায়াপার বিক্রি বেশি হচ্ছে।

২০২৩ সালে জাপানে জন্মগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩১, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.১ শতাংশ কম।

এই সংখ্যা ১৯ শতকের পর জাপানে রেকর্ড সর্বনিম্ন জন্মের সংখ্যা ছিল। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দুই মিলিয়নেরও বেশি। 

একটি বিবৃতিতে ওজি হোল্ডিংস বলেছে, তাদের সহযোগী সংস্থা ‘ওজি নেপিয়া’ বর্তমানে বছরে ৪০০ মিলিয়ন শিশু ন্যাপি তৈরি করে। ২০০১ সাল থেকে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

তখন কোম্পানিটি ৭০০ মিলিয়ন ডায়াপার তৈরি করত। ২০১১ সালে জাপানের সবচেয়ে বড় ডায়াপার প্রস্তুতকারক ইউনিচর্ম বলেছিল, তাদের তৈরি প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বিক্রি শিশুদের ডায়াপারের চেয়ে বেড়ে গেছে। 

ওজি হোল্ডিংস আরো বলেছে, তারা মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার শিশুদের জন্য ডায়াপার তৈরি করতে থাকবে। জাপানে এখন বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি।

এদের প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। গত বছর প্রথমবারের মতো ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের অনুপাত ১০ শতাংশ অতিক্রম করেছে। 

বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জন্মহার হ্রাস বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের জন্য একটি সংকটে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাপান সরকারের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত খুব সামান্য সাফল্যের মুখ দেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কারণগুলো জটিল, যার মধ্যে রয়েছে বিবাহের প্রতি অনীহা, আরো বেশিসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে যোগদান থেকে শুরু করে সন্তান লালন-পালনে অতিরিক্ত খরচ।

 

তবে শুধু জাপান একা নয়। হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়াও সর্বনিম্ন জন্মহারের তালিকায় রয়েছে। চীনও ২০২৩ সালে টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য জনসংখ্যা হ্রাস হতে দেখেছে এবং জাপানের মতো তারাও জন্মহার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা চালু করেছে।

সূত্র : বিবিসি