ফেনীর পরশুরামে অকেজো স্লুইস গেট এখন ঝোপঝাড়।

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৩

শিবব্রত (বিশেষ প্রতিনিধি)
***************************************

পরশুরামে বিজিবি ক্যাম্পের পূর্ব পাশে ভারত – বাংলাদেশ সীমান্তে স্লুইস গেটটি দীর্ঘ দিন ধরে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
এই এলাকায় বানানো স্লুইস গেটটি কোনো কাজে আসছে না।
কহুয়া নদীর পানির স্রোত নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিকাজের সুবিধার জন্য বানানো স্লুইস গেটটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরশুরামের বাউরখুমা এবং বাউর পাথর এলাকার কৃষকদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পরশুরামে নির্মিত এই স্লুইস গেটটি তদারকির অভাবে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পলি পড়ে মূল নদী থেকে স্লুইস গেটের পথ ভরাট হয়ে গেছে।। দুই মুখের কোনোটিতেই ডালা নেই। প্রতিটি ডালার মুখ ভাঙা, কাটা এবং গাছগাছালিতে ভরা।
এই এলাকার কৃষিকাজে বছরজুড়ে পানি সরবরাহ করার জন্যই স্লুইস গেটটি তৈরি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে এই গেটটি।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ১৯৯৭ সালে এই স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। ওই সুত্র জানায়, অবিলম্বে এই স্লুইস গেটটি মেরামত করে এলাকার কৃষক যাতে কৃষিকাজে সুফল লাভ করে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, পাউবোর তদারকির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে স্লুইস গেটটি। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।
বাউর পাথর গ্রামের শরীফ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্লুইস গেটটি ঝোপঝাড়ে পরিত্যক্ত জায়গা হিসেবে পড়ে রয়েছে। গেটের অন্য পাশ দিয়ে পথ তৈরি হয়েছে। পাউবোর কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এই গেট এখন গলার কাঁটার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আরিফ নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই দেখছি অকেজো হয়ে পড়ে আছে এই গেটটি। কৃষিকাজে উপকার তো দূরের কথা, বরং এই গেটের কারণে অন্য দিকের নদী ভাঙছে। এখন যদি এই গেট উঠিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে মূল নদীতে পানি প্রবাহিত হবে। কিন্ত অজ্ঞাত কারণে কেউ এদিকে নজর দিচ্ছে না।’
এদিকে এই স্লুইসগেটটি সচল থাকলে সারা বছরই নদীর পানি ব্যবহার করা যাবে বলে মনে করছে প্রান্তিক চাষিরা ।

স্হানীয় এলাকাবাসী জানায়,এই গেইটে কোনো কাজ হয় না। পানি যে গেট দিয়ে ধরে রাখবে, তার কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব গেট থাকলেও কিছু হয় না, আবার না থাকলেও কিছু হয় না। বরং গেট থাকায় জঙ্গলে পরিণত হয়ে আছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শমসাদ বেগম বলেন, ‘পাউবোর সঙ্গে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষি ও কৃষকদের কথা চিন্তা করে স্লুইস গেট যাতে সচল রাখা যায়, সে জন্য সার্বিক ব্যবস্থা নেয়া একান্ত প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কারও গাফলতি থাকলে সেটাও খুঁজে বের করা হবে। আর যেসব জায়গায় পানি প্রবাহ নেই, সেগুলো প্রয়োজনে ভেঙে ফেলা উচিত। তাই সেগুলোও দেখা হবে।’