তানজিদের নৈপুণ্যে, রিশাদের ঝড়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুম যেন ছোটখাটো একটি হাসপাতালে পরিণত হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে পারেননি সৌম্য সরকার। ঘাড়ে চোট পাওয়া এই ওপেনারের কনকাশন বদলি হিসেবে ইনিংস শুরু করেন তানজিদ হাসান। একাদশের বাইরে থেকে এসে বাজিমাত করেছেন এই তরুণ।

তাঁর ৮১ বলে ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংসের সঙ্গে শেষদিকে রিশাদ হোসেনের টর্নেডো ইনিংসে ৪ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচ জেতায় ২-১ ব্যবধানে জিতে সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। ৫৮ বল হাতে রেখে পাওয়া জয়ে রিশাদ ১৮ বলে ৪৮ ও মুশফিকুর রহিম ৩৬ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তানজিমের সঙ্গী হওয়া এনামুল হক বিজয় প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ, ২২ বলে খেলে করেন ১২।

তিনে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১ রানের বেশি করতে পারেননি। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়, ২২ রানে ফেরেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও (১) সুবিধা করতে পারেননি। এই চার উইকেটের সবগুলো নেন লাহিরু কুমারা।
 

স্বাগতিকদের উইকেট হারানো মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন তানজিদ। ৫১ বলে পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় পঞ্চাশ। কনকাশন হিসাবে ম্যাচে নামার সুযোগ পেয়ে দাপুটে ব্যাটিংয়ে ছিলেন সেঞ্চুরির পথে, কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ৮১ বলে যখন তানজিদের নামের পাশে ৮৪ রান ছয় হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে হলেন ক্যাচ। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলার তানজিদ তামিম ছুঁয়েছেন আরও এক মাইলফলক।

ওয়ানডেতে কনকাশন সাব হয়ে নেমে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন তার। 

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ এসে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিয়ে দলকে টানতে থাকেন। মিরাজ ২৫ রান করে আউট হলে ঝড় তোলেন রিশাদ। হাসাঙ্গারার এক ওভারে ২৪ রান তুলে ম্যাচবের করে নেন তিনি। এর আগে টস হেরে বল কর‍তে নেমে ভালো শুরু পান বাংলাদেশি বোলাররা। তাসকিন আহমেদ নিজের প্রথম ওভারে ফেরান আগের ম্যাচ জয়ের নায়ক পাথুন নিশাঙ্কাকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আভিষ্কা ফার্নান্দোর উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। ১৫ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আর চারে নামা সাদিরা সামারাবিক্রমার ব্যাটে চড়ে পাওয়ার প্লে শেষ করে শ্রীলঙ্কা। স্কোরবোর্ডে জমা করে ৩৯ রান।

পরের ওভারে মুস্তাফিজ হাত ঘোরাতে এসে নিজের দ্বিতীয় বলে সফলতা পান। ১৫ বলে ১৪ রানে থাকা সাদিরা ইনসাইড এজে মুশফিকের গ্লাভসে ক্যাচ দেন। এরপর কুশল মেন্ডিস আর চারিথ আশালাঙ্কার জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। যদিও এই জুটি বাড়তে দেননি রিশাদ হোসেন। তাইজুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে ঢুকেই নিজের প্রথম ডেলিভারিতে বিদায় করেন ২৯ রানে থাকা মেন্ডিসকে। ওয়ানডেতে এটি প্রথম উইকেট রিশাদের।

মেন্ডিসের বিদায়ের পর জানিথ লিয়ানাগের সঙ্গে ৩৭ রান জুটি করে মুস্তাফিজের বলে আউট হন আশালাঙ্কা। সুবিধা করতে পারেননি দুনিথ ভেল্লেলেগে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। পরিস্থিতি বিবেচনায় লঙ্কানরা দুই শ রানের মধ্যে থামবেন বলে মনে হচ্ছিল। তবে অন্যপ্রান্তে ধরে খেলে নিজের পাশাপাশি দলের রান বাড়াতে থাকেন লিয়ানাগে। শতক হাঁকিয়ে ১০২ বলে ১০১ রানে অপরাজি থাকেন তিনি। ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে শ্রীলঙ্কা তোলে ২৩৫ রান। তাসকিন নেন ৩ উইকেট।