আমানত কারীদের জমাকৃত টাকা নিরাপদ থাকবে তো?

Crime Crime

Patrol

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২২

একটা গ্রুপের কাছে এত টাকা ঋণ দেয়া কি সমীচীন?

মোঃ আলী জামান

এস আলম গ্রুপকে ইসলামি ব্যাংক ৩০০০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।জনান্তিকে প্রকাশ,বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

এই ঋণ তারা নিতেই পারে।যদি তাদের বানিজ্য- শিল্প প্রকল্পগুলো ভায়াবল হয়,সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যদি সার্ভে করে দেখে যে,তাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আছে,সেক্ষেত্রে ঋণ তো দিতেই পারে।

কেউ কেউ প্রশ্ন উঠাতে পারে যে,একটা গ্রুপের কাছে এত টাকা ঋণ দেয়া কি সমীচীন?
যদি কোন কারনে ঋণ পরিশোধ করতে না পারে তবে,ব্যাংক তো সমস্যায় পড়বে? আর ব্যাংকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ অনিশ্চয়তায় পড়বে।

তা একটু পড়তেই পারে।কিন্তু এইটা “ক্রোনী ক্যাপিটালিজম” এর যুগ।এখানে যেসব শিল্প ব্যবসা গ্রুপ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পায়,তারাই ব্যবসায়ে সফল হয়।এর বিপরীতে ক্ষুদ্র শিল্প ব্যবসা গুলো হারিয়ে যায়।যার অনেকখানি নমুনা দেশে এখন দৃশ্যমান।

বাংকের নিজস্ব পুঁজি(Paid-up capital) খুবই নগন্য।মুলতঃ আমানতকারীদের জমাকৃত টাকায় ব্যাংক চলে।এরপর সিআরআর- এসএলআর বাবদ ১৮% বাদ দিয়ে ঋণ দিতে হয়।অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৮২% ঋণ দিতে পারে ব্যাংক।কিন্তু বর্তমান সময়ের ব্যাংকগুলো ডেস্পারেট ব্যাংকিং করে অনেক বেশী ঋণ দেয়।যে কারনে তাদের ঋণের ঝুঁকি অনেক বেশী হয়।

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানতকারীদের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাংকের আমানত অনেক বেশী হওয়া সত্বেও- ক্ষুদ্র শিল্প ব্যবসাগুলোকে ঋণ দিতে ব্যাংক বরাবর অনাগ্রহী। দিলেও সতের রকম ফ্যাকড়া তুলে কাটিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে।এরপরে যাদের কাছে ঋণ দেয়,তাদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত কো ল্যাটারাল সিকিউরিটি নেয়া হয়।ক্ষুদ্র মাঝারী খাতের ঋণ আদায়ের হার ৯৮% এর বেশী হলেও,তাদেরকে ব্যাংক ঋণ দিতে গড়িমসি করে।

পক্ষান্তরে বড় শিল্প গুলোর ঋণ আদায়ের হার ৮০% নীচে।তারপরেও ব্যাংকগুলো তেলা মাথায় তেল দেয়া নীতি অনুসরণ করে- তাদেরকে ছাপ্পড় ভরে ঋণ দেয়।
আর পর্যাপ্ত সহ জামানত না থাকায়,ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে না।শেষ মেষ তাদেরকে সুদ মওকুফ সুবিধা আর ঋণ পুনঃ তফসিল করে- ব্যাংক ঋণের লেজার স্থিতি ঠিক রাখে।

এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হলো,ইসলামী ব্যাংকের এস আলম গ্রুপকে দেয়া ঋণ কি ফেরত আসবে..?বা অন্য যেসব ব্যাংকের ঋণ প্রদানে অনিয়মের কথা মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে,সেগুলোর ভবিষ্যৎ কি হবে..?
আমানত কারীদের জমাকৃত টাকা নিরাপদ থাকবে তো?